কাটলো অনিশ্চয়তা, যে তিন টিভির পর্দায় দেখা যাবে বিশ্বকাপ ম্যাচ!

ক্রীড়া ডেস্ক: আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। চার বছর পরপর আয়োজিত এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে বাংলাদেশেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। শহর থেকে গ্রামগঞ্জ—সবখানেই চলছে প্রিয় দলকে ঘিরে আলোচনা, চলছে পতাকা টানানোর প্রস্তুতি।

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে ছিল একটাই প্রশ্ন— দেশের টেলিভিশনের পর্দায় কি দেখা যাবে বিশ্বকাপ?

সেই শঙ্কার অবসান হলো টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে। অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে, দেশের দর্শকরা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ।

বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন সময় টেলিভিশন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টসও সম্প্রচার করবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আসর।

জানা গেছে, এই তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি যৌথ কনসোর্টিয়াম সরাসরি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে।

তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। এর আগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’ বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের সম্প্রচার অধিকার কিনেছিল। কিন্তু দেশীয় বাজারে সেই স্বত্ব বিক্রি করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে বাংলাদেশে কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত ছিল না।

এ অবস্থায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের আড্ডা—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বকাপ সম্প্রচার সংকট।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা একসঙ্গে বিভিন্ন ক্রীড়া চ্যানেল, জাতীয় গণমাধ্যম, টেলিকম অপারেটর এবং একাধিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে নয়, সম্প্রচার ব্যয় নির্বাহের জন্য ডিজিটাল ও টেলিকম খাত থেকে নতুন আয়ের উৎসও খুঁজে বের করা হয়, যা এর আগে কোনো বিশ্বকাপের সময় ব্যবহার করা হয়নি। এ উদ্যোগের ফলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভির ওপরও কোনো আর্থিক চাপ পড়ছে না।

জানা গেছে, সম্প্রচারের পুরো ব্যয় যৌথভাবে বহন করছে সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ও টেলিকম অপারেটররা। ফলে বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। এখন আর সম্প্রচার নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই; বরং শুরু হয়েছে উৎসবের দিনগোনা।

বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে এক ভিন্ন আবেগ। যদিও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নেই, তবুও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা স্পেনকে ঘিরে লাখো মানুষের উন্মাদনা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে কম নয়। বিশ্বকাপ এলেই ছাদে, বারান্দায়, মাঠে কিংবা গ্রামের রাস্তার পাশে উড়তে থাকে নানা দেশের পতাকা। রাত জেগে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ে আবেগের বিস্ফোরণ—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন বাংলাদেশেও এক অনানুষ্ঠানিক উৎসবে পরিণত হয়।

আর সেই উৎসবের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ টেলিভিশনের পর্দা। অবশেষে সম্প্রচার জটিলতার অবসান হওয়ায় এবারও দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াই এবং ফুটবল মহোৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top