নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক এক সিবিএ নেতাকে অপসারণ করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে।
অপসারিত ওই কর্মচারীর নাম মো. নায়েবুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের নিম্নমান বহি:সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তাকে অপসারণ করা সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়– জনাব মো. নায়েবুল ইসলাম, নিম্নমান বহি:সহকারী (সাময়িক বরখাস্ত) পরিবহন বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে পলায়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার এহেন কার্যকলাপ আচরণ ও শৃংখলা পরিপন্থি এবং চাকুরীর বিধানবলীর লঙ্গন; একইসাথে চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৯১ এর ৩৯ (গ) মোতাবেক গুরুদন্ড যোগ্য অপরাধ।

চিঠির সূত্রে আরো জানা গেছে, উক্ত কর্মচারীকে একাধিকবার পত্র মারফত কর্মস্থলে যোগদান করার আদেশ দেয়া গেলেও তিনি তা প্রতাখ্যান করেন। এর ফলে তাকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত তদন্ত কমিটি তাকে শোকজ করে এবং ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলে। তিনি সেটিও আমলে না নেননি।
ফলে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৯১ এর ৪০ (খ) এর উপবিধি (ই) মোতাবেক মো. নায়েবুল ইসলাম কে চাকুরী হতে অপসারণ করে।
তবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছেন প্রভাবশালী সিবিএ নেতা মো. নায়েবুল ইসলাম।
তিনি চাটগাঁ নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে পত্র মারফত অবহিত করেছিলাম। শোকজের জবাব দিতে আমি আরো সময় চেয়েছি কিন্তু তারা আমাকে সময় না দিয়ে উল্টো আমাকে অপসারণ করেছে। যা অমানবিক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।

তবে বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সিবিএ নেতা আওয়ামী লীগ আমলে এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, বিএনপি-জামায়াত অনুসারী কর্মচারীরা তার ভয়ে তটস্থ থাকতো। বন্দরের ১৬তম গ্রেডের সামান্য একজন কর্মচারী হয়েও ছড়ি ঘোরাতেন বন্দরের শীর্ষ কর্তাদের ওপর।
বন্দরের সাধারণ কর্মচারীরা জানান, যাদের ওপর তিনি জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন তাদের ভয়েই মূলত বন্দরে প্রবেশ করার সাহস পাচ্ছেন না সাবেক এই সিবিএ নেতা।
এদিকে বিষয়টি জানতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





