চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন ও শিক্ষা সফরে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে পূজা রানী দাস (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী।
নিখোঁজ পূজা রানী দাস ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মিরসরাই উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনু ভূইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা অপু চন্দ্র দাশের মেয়ে। পরিবারটি বর্তমানে একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।
জানা যায়, গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ মোট ১৭৫ জন তিনটি বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরার প্রস্তুতিকালে সবাইকে বাসে উঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তখন তিনটি বাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী না উঠলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের খুঁজে এনে বাসে তোলেন। তবে সবশেষে পূজা রানী দাসকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে শিক্ষকরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে জানিয়ে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ রয়েছে, জিডি করেই দায়িত্ব শেষ করে শিক্ষকরা মিরসরাই ফিরে আসেন, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা অপু চন্দ্র দাশ মেয়েকে ফিরে পেতে বারবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তিনি বলেন, আমরা অশিক্ষিত মানুষ। স্কুল থেকে আমার মেয়েকে কক্সবাজারে পিকনিকে নিয়ে গেছে। এত দূরে নিয়ে গেল, কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিজে গেলেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি। যিনি দায়িত্বে ছিলেন, সেই সহকারী শিক্ষক নাকি ফেরার পথে নেমে যান। পরে একজন শিক্ষক ফোন করে বলেন, মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার প্রশ্ন—যদি দায়িত্ব নিতে না পারেন, তাহলে কেন আমার মেয়েকে পিকনিকে নিয়ে গেলেন?
এ বিষয়ে শিক্ষা সফরের দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রতন বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে কথা বলার একপর্যায়ে ফোন কেটে দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ‘ঝামেলায় আছেন’ বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে শিক্ষা সফর পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল কিনা—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





