ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতের রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন চূড়ায় উঠলেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি রোহিত শর্মা। প্রোটিয়া বোলারদের তুলোধুনো তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন।
‘হিটম্যান’ হিসেবে পরিচিত রোহিত শর্মা ম্যাচটি শুরু করেছিলেন ৩৪৯টি ছক্কা নিয়ে। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির দীর্ঘদিনের (৩৫১টি) রেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি ছক্কা। ঐতিহাসিক এই কীর্তি তিনি নিজের ট্রেডমার্ক ভঙ্গিতেই অর্জন করেন।
অনায়াসে একটি ডেলিভারিকে গ্যালারির উপরের দিকে পাঠিয়ে তিনি তার ৩৫২তম ছক্কাটি পূর্ণ করেন, যা তাকে তর্কাতীতভাবে বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে স্থাপন করে।
ভারতের ইনিংসের ২০তম ওভারে আসে সেই রেকর্ড-ব্রেকিং মুহূর্ত, যা গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশাল উল্লাস এবং ভারতীয় ড্রেসিংরুমে করতালি ঝড় তোলে। বিশ্বজুড়ে তার নিখুঁত টাইমিং এবং অনায়াসে ছক্কা মারার ক্ষমতার জন্য পরিচিত রোহিত মাইলফলকটি ছুঁতে আফ্রিদির তুলনায় ১০০ ইনিংস কম খেলেন।
ওডিআই ক্রিকেটে সর্বাধিক ছক্কা মারা ব্যাটারদের তালিকা:
রোহিত শর্মা (ভারত) – ৩৫২* ছক্কা
শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান) – ৩৫১ ছক্কা
ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) – ৩৩১ ছক্কা
সনাথ জয়সুরিয়া (শ্রীলঙ্কা) – ২৭০ ছক্কা
এমএস ধোনি (ভারত) – ২২৯ ছক্কা
আফ্রিদি বহু বছর ধরে এই রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন। তবে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ভারতীয় তারকার দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দ্রুত এই ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়। রোহিতের বর্তমান ছক্কার সংখ্যা এখন ৩৫২ এবং তা বাড়তে থাকবে, যা তাকে ক্রিস গেইল (৩৩১) এবং শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়ার (২৭০) মতো অন্যান্য পাওয়ার-হিটারদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এই রেকর্ড-ব্রেকিং পারফরম্যান্স সাদা বলের ক্রিকেটের ইতিহাসে রোহিত শর্মার অবস্থানকে অন্যতম বিধ্বংসী এবং জনপ্রিয় ব্যাটার হিসেবে আরও দৃঢ় করলো।
ম্যাচে যশস্বী জয়সওয়ালের সাথে ইনিংস ওপেন করতে নামেন রোহিত, যদিও বাঁহাতি ওপেনার দ্রুত ফিরে যান। এরপর তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিরাট কোহলির সাথে ‘হিটম্যান’ একশ’ রানের বেশি একটি পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। মার্কো জেনসেনের শিকার হওয়ার আগে রোহিত শর্মা ৫১ বলে ৫৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন






