নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম নগরীতে পারিবারিক কলহের জের ধরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাইয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) বিকালে ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট পোস্তারপাড় জুম্মন আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার অভিযুক্তকে আটক করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নিহত আবসার উদ্দিনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এ ব্যাপারে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের নাম বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিন্নরকম রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি। ঝগড়া লাগছে সকাল ১১টার সময়। গুরুতর আহত আবসার উদ্দিনকে হাসপাতালে না নিয়ে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার আবসার উদ্দিন মারা যাওয়ার অনেকক্ষণ পর পাড়া প্রতিবেশিরা জানতে পারছেন। এখানে পারিবারিক কলহ, জায়গা জমির বিরোধসহ নানা কিছু থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে নিহত আবসার উদ্দিন সবার ছোট। বড় ভাই জসিম উদ্দিন প্যারালাইজড। আর মেজো ভাই শামসুদ্দিন উদ্দিন আহমেদ; যার লাঠির আঘাতে খুন হয়েছেন আবসার উদ্দিন আহমেদ। প্যারালাইজড বড় ভাই জসিম উদ্দিনকে দেখাশুনা করেন ছোট ভাই আবসার উদ্দিন।
বুধবার দুপুরে প্যারালাইজড জসিম উদ্দিনের পায়খানা পরিষ্কার করা নিয়ে শামসুদ্দিনের সাথে আবসার উদ্দিনের বাক বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শামসুদ্দিনের স্ত্রী বেবি আক্তার, তার ছেলে আসিফ আহম্মেদ, আসিফের বউ মিম ও শামসুদ্দিনের ছোটো ছেলে আশফিন আহমেদ মিলে আবসার উদ্দিনকে কাঠ দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এতে আবসার উদ্দিন গুরুতর আহত হন। প্রতিবেশিরা আহত আবসার উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজতে বের হন। এসময় একটি পক্ষ আহত আবসার উদ্দিনকে হাসপাতালে না নিয়ে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে কেউ কেউ এতে বাধা দেন। আহত আবসার উদ্দিনকে হাসপাতালে বা আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়ার জন্য টানাটানির এক পর্যায়ে তাকে ঘটনাস্থলেই অনেকক্ষণ ফেলে রাখা হয়। বিকাল আনুমানিক ৪টার সময় আবসার উদ্দিন মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিহতের বড় বোন সুলতানা বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ি চান্দগাঁও। আমি আমার অসুস্থ ভাই জসিম উদ্দিনের জন্য প্রায় সময় খাবারদাবার নিয়ে আসি। কিন্তু আজ কি হলো আল্লাহ মালিক জানেন। আমার ছোট ভাই শামসুদ্দিন তার স্ত্রী বেবি আক্তার ও তার ছেলে, ছেলের বউ সবাই মিলে নগন্য একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়ায় শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে আমার ছোট ভাই আবসারকে গাছের পাট্টা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মারধরের কিছুক্ষণ পর আবসার মারা যায়। খবর পেয়ে আমি চান্দগাঁও থেকে ছুটে এসেছি। আমার বোন রোকসানাও এসেছে।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইদের হাতে বড় ভাই খুনের ঘটনা ঘটে। একইদিন চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে শ্যামল চৌধুরী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/ইউডি/এসএ