উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ জমিতে আমন চাষ হলেও কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় দেখা দিয়েছে সংকট। সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে অনেক কৃষককে ভিজে সার সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উখিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। এ মৌসুমে শস্যচাষি কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। তবে আগের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ ও সরবরাহের তুলনায় সারের চাহিদা বেশি। ফলে ডিলার ও সাব-ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সার সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে তাদের। কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ায় আমন চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অক্টোবর মাসের জন্য উখিয়ায় প্রায় ৯৬ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৯ জন ডিলার ও ৪২ জন সাব-ডিলারের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উখিয়ার বিভিন্ন সার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই কৃষকদের দীর্ঘ সারি। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে অনেক কৃষককে লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন কৃষক।
কৃষক আলমগীর বলেন, আমন ধানের জমিতে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করা জরুরি। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে খোলা বাজার থেকে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দরগার বিল এলাকার কৃষক নুরুল কবির বলেন, ‘সার নিতে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বৃষ্টিতে ভিজেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাচ্ছি না। জনপ্রতি মাত্র ১০ কেজি করে দিলে জমির প্রয়োজন মেটানো কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বিবেচনায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ডিলার ও সাব-ডিলার পর্যায়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীস সরকার বলেন, ‘আজ সকাল থেকে অক্টোবর মাসের জন্য বরাদ্দকৃত ৯৬ মেট্রিক টন সার বিক্রি শুরু হয়েছে। বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম হলেও আমরা ডিলারদের নির্দেশনা দিয়েছি, যেন কমবেশি করে হলেও সব কৃষকের হাতে সার পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো কৃষক যেন সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে না যান, সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন






