চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৯টি বাঁকের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি বাঁকের দুই পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারেন।
বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকা, ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের অংশ, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশর খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।
বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী জানান, ঈদের সময় এই সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ওঠে।
মহাসড়কে চলাচলকারী চালকেরা বলছেন, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ করে বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল অস্থায়ী পতাকা নয়—স্থায়ী সাইনবোর্ড, নির্ধারিত গতিসীমা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





