ঈদগাঁও প্রতিনিধি: পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহিষ্ণুতা অর্জনের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার খালগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশপ্রেমিক জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সারা দেশে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনার আলোকে জেলার আওতাধীন বিদ্যমান খালগুলোর বর্তমান অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী নির্ভুলভাবে পূরণ করে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন কার্যালয়ের পরিচালক সায়মা আক্তার।
উক্ত নির্দেশনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর সাধারণ শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজিব সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর প্রয়োজনীয় পত্র জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জব্বার উপজেলার আওতাধীন আংশিক মৃত, সচল ও বন্ধ খাল, ছড়া এবং নদীর হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছেন।
তিনি জানান, ঈদগাঁও, ইছাখালী, মাছুয়াখালী, জঙ্গল মাছুয়াখালী, ভোমরিয়া ঘোনা, পোকখালী ও নাপিতখালী মৌজা থেকে মোট ১৭টি খাল, ছড়া ও নদী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংগ্রহীত তালিকায় রয়েছে— ইছাখালী মৌজার লোজাজ্জোরা জিয়া খাল, ঈদগাঁও মৌজার ইউসুফ ভরাট খাল (বোয়ালখালী খাল), মাইজপাড়া ভরাট খাল ও জালালাবাদ বাহার ছড়া জিয়া খাল, মাছুয়াখালী মৌজার চাঁন্দের ছড়া খাল ও জাইক্কা কাটা খাল, ঈদগাঁও নাসি খাল ও ঈদগাঁও ছড়া খাল, কালিরছড়া খাল, জঙ্গল মাছুয়াখালী মৌজার ভাদিতলা খাল, ভোমরিয়া ঘোনা মৌজার ঈদগাঁও শিয়া পাড়া খাল, পোকখালী মৌজার বানিয়ারজুরা খাল ও ফরাজী ঘোনা খাল, গোমাতলী মৌজার দক্ষিণের ঘোনা খাল, নাপিতখালী মৌজার নাপিতের ছড়া খাল ও ইসলামপুর লবণ মিল সংযোগ খাল এবং ভোমরিয়া ঘোনা, পোকখালী ও গোমাতলী মৌজার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঈদগাঁও নদী।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় জলধারা হলো ঈদগাঁও নদী। এর দৈর্ঘ্য ৪৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫০ ফুট। এই নদীর মাধ্যমে প্রায় ৩৬৮১ একর এলাকা উপকৃত হচ্ছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।
অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট খাল হলো বানিয়ারজুরা খাল। এর দৈর্ঘ্য ১.৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ ফুট। এ খালের মাধ্যমে প্রায় ১০০ একর এলাকা উপকৃত হচ্ছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।
চাটগাঁ নিউজ/সেলিম/এমকেএন






