ইরানে সামরিক হামলা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চূড়ান্ত নাটকীয় মোড়ে এসে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার যে আলটিমেটাম তিনি দিয়েছিলেন, তা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আগামী পাঁচ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেন তিনি।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুইদিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা চিরতরে অবসানের লক্ষ্যে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অন্তত পাঁচদিন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বড় অক্ষরে ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘কিন্তু এই গভীর, বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনার মেজাজ ও সুর বিবেচনা করে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এই আলোচনা সপ্তাহজুড়ে চলবে। তবে এটি (হামলা না করার সিদ্ধান্ত) চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে। এই বিষয়টির দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ!’

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে প্রণালিটি তারা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কখনো কখনো ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। নানাভাবে আলোচনা করেও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলতে পারেনি।

এর এক পর্যায়ে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ঠিক এ মুহূর্ত থেকে’ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার ‘হুমকি ছাড়াই’ ইরানকে এই জলপথ পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। অন্যথায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এ ঘটনায় আইআরজিসিও বিবৃতিতে দেয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।

পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান কেবল সেই সব দেশের জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত। অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top