আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া ও চীন। বেইজিং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার-এর সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং এতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সামরিক হামলার ফলে সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, চীন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক হামলার বিরোধিতা করে। সংঘাতের বিস্তার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শক্তি প্রয়োগ কখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি নতুন সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে।
চীনের দাবি অনুযায়ী, ফোনালাপে ইসরায়েল চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে ওয়াং ই ইরান, ওমান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, এই যুদ্ধ উলটো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারকে উৎসাহিত করতে পারে।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপের ফলে ইরানের ভেতরে এমন শক্তি তৈরি হতে পারে, যারা পারমাণবিক বোমা অর্জনের পক্ষে অবস্থান নেবে। ল্যাভরভ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, তাদের ওপর হামলা করে না।
তিনি আরও সতর্ক করেন, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কারণে আরব দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রতিযোগিতায় নামতে পারে, ফলে বৈশ্বিক পারমাণবিক বিস্তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মস্কো পুনরায় দাবি করেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাপের পর ল্যাভরভ জানান, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে রাশিয়া সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





