ইরানে বিক্ষোভ: নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ হাজার

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি এক সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্যটি গণমাধ্যমকে জানান। প্রথমবারের মতো বিশাল এই প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছেন উক্ত সরকারি কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এই মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয় পক্ষকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।

মূলত চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গত তিন বছরের মধ্যে ইরানের ধর্মীয় শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ভেতরে এই অস্থিরতার মধ্যেই আন্তর্জাতিক চাপ তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া দমন-পীড়নের শাস্তিস্বরূপ সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পুরোদমে প্রস্তুত আছে। চীন ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের কঠোর সমালোচনা করলেও তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান অতীতে এর চেয়ে বড় বিক্ষোভ সামাল দিলেও বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রাইডরিশ মের্জ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পতন ঘনিয়ে এসেছে। আমরা সম্ভবত এই শাসনের শেষ দিন বা সপ্তাহগুলো প্রত্যক্ষ করছি ‘

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখনো ফাটল ধরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সরকার বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি একটি ‘দ্বিমুখী নীতি’ গ্রহণ করেছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, ‘সরকার নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারী— উভয়কেই নিজের সন্তান মনে করে। আমরা তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছি, যদিও কেউ কেউ বিক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তথ্য প্রবাহে বাধা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ এর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও নিহতের সংখ্যা ২০০০ বলা হচ্ছে, বিরোধী দলগুলোর দাবি এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ভিডিও ফুটেজে রাতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির চিত্র দেখা গেছে।

এত উত্তেজনার মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের কথা বললেও হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের দেওয়া কিছু প্রস্তাব তারা খতিয়ে দেখছেন।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top