আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও দেখা দিয়েছে যুদ্ধের শঙ্কা। এবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এমন সময় বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে— সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী, শুধু প্রেসিডেন্টের নির্দেশের অপেক্ষা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পরিকল্পনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় তারা পরিচয় প্রকাশ করেননি। এতে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে গত সপ্তাহে ওমান–এ মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা আলোচনা করেছেন। তবে এর আগে ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান ও গাইডেড–মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে নর্থ ক্যারোলাইনা–এর একটি ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং কখনো কখনো শক্ত অবস্থান নিতে হয়।
সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস–এর মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, তেহরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব বিকল্প খোলা আছে।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে দুইটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবারের পরিকল্পনা আরও জটিল হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানান। এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি, কারণ দেশটির কাছে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তেহরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
উত্তেজনার মধ্যে গত বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি—এই দ্বিমুখী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





