ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ২৩ মেরিন সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে আটকে পড়া ২৩ জন সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির নৌবাহিনী।

নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল টুঙ্গগুল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জানান, নিহতরা সবাই নৌবাহিনীর মেরিন সদস্য। মূলত দিন কয়েক আগে সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়া এই ২৩ জন নৌসেনাসহ বহু মানুষ মাটিচাপা পড়েন। এখনও বহু বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, গত শনিবার ভোরে পশ্চিম জাভার বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। মূলত এর এক দিন আগে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ওই ধস নামে। গ্রামটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পাহাড়ঘেরা একটি অঞ্চলে অবস্থিত।

নৌবাহিনীর মুখপাত্র টুঙ্গগুল বলেন, শনিবার ইন্দোনেশিয়া–পাপুয়া নিউগিনি সীমান্তে টহল দেয়ার প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণের সময় ওই ২৩ জন মেরিন সদস্য ভূমিধসে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, ‘চরম আবহাওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, আর তাতেই প্রশিক্ষণ এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।’

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এই ভূমিধসে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে, যা আগে ছিল ১৭। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪২ জন। তবে দুর্যোগ সংস্থার হিসাবে যাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সেনারা অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।

নিখোঁজদের উদ্ধারে অন্তত ৮০০ উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্য এবং নয়টি এক্সকাভেটর মোতায়েন করা হয়েছে। মুহারি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম থেকে ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে স্থানীয় সরকারি ভবনে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে বর্ষা মৌসুমের প্রায়ই এই ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহেও জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার কয়েকটি এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এর মাত্র দুই মাস আগেই সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারান অন্তত ১ হাজার ২০০ মানুষ। সেই দুর্যোগে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top