আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর শেষ হবে: চসিক মেয়র

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী ২০২৯ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমার মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি নিজেই সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হালিশহর এইচ ব্লকে একটি পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র দাবি করেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে আগের মেয়রের পুরো সময়কাল অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনি যেদিন শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকেই পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন। সে অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, সরকার তাকে পাঁচ বছরের জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্টও দিয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০২১ সালের সিটি নির্বাচনে ভয়ভীতির পরিবেশ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণের পর প্রিন্টেড কপি না দিয়ে হাতে লেখা ফল দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি মেনে নেননি। পরবর্তীতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং তিন বছর আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় তার এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি নির্বাচনের দিন রাতেই হার্ডডিস্ক পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মেয়র বলেন, তার রাজনৈতিক জীবন প্রায় চার দশকের। ছাত্রদলের সভাপতির পদ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলেন তিনি। এত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও উৎসবমুখর ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন মোকাবিলা করার সুযোগ পাননি বলে আক্ষেপ করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ২২ লাখ ভোটার রয়েছেন। তাদের কতজন তাকে সমর্থন করেন, তা গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমেই জানতে চান তিনি।

সাম্প্রতিক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভালো নির্বাচন। বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় তিনি দেখেছেন, কিছু উপদেষ্টা বিএনপিকে হারানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের মতামত জানিয়েছেন।

তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠে ২৩টি আসনে সমাবেশ করে ২১টিতে জয় পাওয়া তারেক রহমানের ক্যারিশমার প্রমাণ। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে বাঁশখালীতেও বিএনপি জয়ী হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজেকে দেশের একমাত্র মেয়র হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত বলেন, আদালতের নির্দেশে তিনি ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে আছেন। তবে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকাতেও নির্বাচন হওয়া উচিত। কাউন্সিলর না থাকায় নগরবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলজিআরডির পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ নেই।

দল যদি তাকে আবার প্রার্থী ঘোষণা করে, তাহলে তফসিল ঘোষণার পর তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দলের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

সবশেষে তিনি বলেন, জনগণই ঠিক করবেন কাকে ভোট দেবেন। তিনি চান একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

আরও খবর পড়ুন – চাটগাঁ নিউজ হোমপেজ

Youtube
লাইভ আপডেটেড ভিডিও নিউজ দেখতে চোখ রাখুন সিপ্লাস টিভির ইউটিউব চ্যানেলে

Scroll to Top