চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক হাতে ফ্যামেলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত। রাখ তোদের ফ্যামেলি কার্ড। আমার মায়ের মর্যাদার চাইতে ওই ফ্যামেলি কার্ড নস্যি, এর দুই পয়সার কোনো গুরুত্ব নাই। আগে আমার মায়ের মর্যাদা, তারপর তোদের ফ্যামেলি কার্ড। আমরা জাতিকে গর্বিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারো কার্ডের ধার এ জাতি ধরবে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে যুবসমাজ লড়াই করেছিল, তাদের দাবি ছিল একটাই—উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা সমাজের সর্বস্তরের সব মানুষের জন্য ন্যায্যতা চাই। যারা এই ন্যায্যতা দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের দেশ থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। সেই মায়ের সন্তানদের ভয় দেখাইও না। আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছো—আগুন জ্বলে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, এ আগুন কেউ নিভাতে পারবে না। আমাদের ঠেকাতে পারবে না, ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না। আলটিমেট মঞ্জিলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টলাবাসীর একটি ঐতিহ্য আছে। অনেকে আক্ষেপ করে বলেছেন—নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, কাজে ফকফকা। কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্দর বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না। আগামীতে এই বন্দর জনগণের হবে। আমাদের মঞ্জিল হচ্ছে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে এবং আল্লাহর দেওয়া বিধানের আলোকে বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এই যুবসমাজ কারো কাছে গিয়ে ভিক্ষা চায়নি, বেকার ভাতা চায়নি। তারা বলেছে—আমাদের হাতে কাজ দাও, আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি—বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অসম্মানিত করবো না। প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। তারপর বলব, তোমার কাজটা তুমি নাও, আমার দেশটা আমাকে করে দাও।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে এই যুবসমাজকে ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই। সেই উড়োজাহাজের প্যাসেঞ্জার সিটে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। অতীতের কাসুন্দি টেনে এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। ধর্মে–বর্ণে আমরা কোনো ভেদাভেদ চাই না। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশকে আমরা ফুলের বাগান হিসেবে সাজাতে চাই।
তিনি বলেন, সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, বিশেষ করে মা–বোনদের জন্য—তাদের ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে। মা–বোনদের সর্বশক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। মায়ের মর্যাদার মাথার ওপরে তাদের তুলে রাখব ইনশাল্লাহ। মায়ের মর্যাদা দিতে না পারলে জান দিতে প্রস্তুত থাকব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের সাক্ষী রেখে চট্টলার এই উন্মুক্ত ময়দানে আমি ঘোষণা দিচ্ছি—আমি জামায়াতে ইসলামীর ছোট্ট একজন দায়িত্বশীল। কিন্তু আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির দিনই আমাদের সব কার্যক্রম সফল হবে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখের দুটি ভোট—একটি হচ্ছে জুলাইকে বুকে আঁকড়ে ধরার জন্য হ্যাঁ ভোট। জুলাই আছে তো ২৬-এর নির্বাচন আছে, জুলাই যেখানে নাই সেখানে ২৬-এ কোনো নির্বাচন নাই। যারা জুলাই মানে না, তাদের জন্য আবার কিসের নির্বাচন। যারা জুলাইকে ঐতিহ্য হিসেবে বুকে ধারণ করে, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেয়—তাদের জন্য নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, ঠেলা খাইলে নাকি বাবা ঠিক হয়। খেলায় তো বাবাজি আছেই—প্রথমে বলে না, না ভোট। এখন দেখেন, সারাদেশ ঐক্যজোট হ্যাঁ-এর পক্ষে। এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে—আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব। আমরা দোয়া করি, তাদের মুখের কথাটা যেন বুকের কথাই হয়। এই ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। হ্যাঁ বিজয়ী হবে।
জামায়াত আমির বলেন, ১১টি দলের ১১টি প্রতীক আছে। আমরা কোনো দলকে পেটে হজম করিনি। এটা একটি দলকে অপমান করার শামিল। আমরা সেটা করিনি। আমরা সব দলকে নিজেদের পথে নির্বাচন করতে দিচ্ছি।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





