চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিএনজি চালক মো. সজ্জাদ (২২) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে এসেছে। পলাতক থাকা বাকি দুই আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ কনভেনশন হলের সামনে থেকে লিয়াকত আলী (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার লিয়াকত আলী চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২ নম্বর সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লটমনি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের রাতে সজ্জাদের হাত-পা বাঁধার জন্য একটি গামছা কিনেছিলেন লিয়াকত আলী। এরপর দুইটি ধারালো ছুরি দিয়ে সজ্জাদকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করতে চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংসতার প্রমাণও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে লিয়াকত আলীকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছিনতাই ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এর আগে এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মোট ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে ধরতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত লিয়াকত আলীকে রোববার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত সজ্জাদ আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। চার দিন পর, ১৮ সেপ্টেম্বর বরুমছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী নুরুল হকের একটি ফিশারিজ পুকুরসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. নাছির ড্রাইভার বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
চাটগা নিউজ/এমকেএন





