আনোয়ারায় সন্ত্রাসী সম্রাট গ্রেপ্তার, ধস্তাধস্তিতে আহত ৩ পুলিশ সদস্য

আনোয়ারা প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনার পর দুই দফা অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘সম্রাট গ্রুপ’-এর প্রধান মো. সম্রাটকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকার একটি সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আরও দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সম্রাট বারখাইন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শোলকাটা গ্রামের ইলিয়াস মির্জা কালুর ছেলে। তিনি আনোয়ারা থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ দাগী সন্ত্রাসী। অন্য আটক ব্যক্তিরা হলেন— জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের খুরুস্কুল গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে ও সম্রাটের চাচা মো. কামাল (২৫) এবং শোলকাটা গ্রামের সৈয়দ নুরের স্ত্রী রুবি আক্তার (৩৫)।

অভিযানে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চন্দ্র দাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুরুল আফছার ও এএসআই সুমন কুমার ধর। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শোলকাটা এলাকায় প্রথম অভিযান চালায় আনোয়ারা থানা পুলিশ। এসআই শিমুল চন্দ্র দাস ও এএসআই নুরুল আফছারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে সম্রাট ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আবারও তথ্য পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। বেলা ১১টার দিকে পরিবারসহ মালামাল নিয়ে ভ্যানে করে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতিকালে শোলকাটা এলাকার একটি সড়ক থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং তিন সদস্য আহত হন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় সম্রাটের কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত নয়টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, অভিযানে সম্রাটসহ দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাকে সড়ক থেকে ছুরিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সম্রাট গ্রুপের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাঈনুদ্দীন মহিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোলকাটা এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের হামলায় পাঁচজন আহত হন এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন

আরও খবর পড়ুন – চাটগাঁ নিউজ হোমপেজ

Youtube
লাইভ আপডেটেড ভিডিও নিউজ দেখতে চোখ রাখুন সিপ্লাস টিভির ইউটিউব চ্যানেলে

Scroll to Top