আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকা চমেক হাসপাতালে হাজারো রোগীর দুর্ভোগ!

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ বিভাগের ঘোষণা আগেই দেওয়া ছিল। যেখানে বলা হয়েছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রায় আড়াই ঘণ্টা থাকবে না বিদ্যুৎ। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা না করায় এদিন দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জরুরি অনুরোধের পর বিদ্যুৎ বিভাগ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বাধ্য হয়।

এর আগে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হয়েছে চিকিৎসাসেবা। বন্ধ ছিল এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফিসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও স্বজনরা।

জানা গেছে, হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে ছয়টি এক্স-রে মেশিন রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব মেশিন চালু করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও ব্যাহত হয়েছে। ফলে পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিভাগগুলোতে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা যায় তাদের।

রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান কাজী মো. আলম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আজ (শনিবার) রোগীদের এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি। আলট্রাসনোগ্রাফির মেশিন চালাতেও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকায় সেটিও চালু রাখা সম্ভব হয়নি আমাদের।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে আজ। অনেক জরুরি পরীক্ষা যথাসময়ে করা সম্ভব হয়নি। তবে জেনারেটর চালু করে সীমিত পরিসরে কিছু সেবা সচল রাখা হলেও সেটিরও বেশ কয়েকবার বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্টেডিয়াম এলাকার একটি ফিডারের আওতায় কেবলিং ও মেরামতকাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পূর্ব ঘোষণা ছিল। এ ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত স্টেডিয়াম এলাকার কয়েকটি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা ছিল। চমেক হাসপাতালও ওই ফিডারের আওতাধীন।

পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (স্টেডিয়াম)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, জরুরি মেরামতের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে চমেক হাসপাতালের পরিচালকের ফোন পাওয়ার পর রোগীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, রোগীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগকে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর অনুরোধ করা হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সংযোগ চালু করেছে। হাসপাতালে এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে বিদ্যুৎ থাকবে না এমন ঘোষণায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না সেটির কোনো সদুত্তর দেননি পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ 

Scroll to Top