চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত একটি পোস্টে নারীদের বিষয়ে করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে দু’দিন আগে বলেছেন, যে সকল মহিলা, যে সকল মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান, তাদেরকে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন- যা কলঙ্কস্বরূপ। এই কথা বলার পরে যখন তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, তখন তারা বলছে আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের একজন সিনিয়র নেতা জনগণের সামনে নির্বাচনের আগে এইভাবে মিথ্যা কথা বলছে। দলটি পর্যন্ত মিথ্যা কথা বলছে। আইডি হ্যাক হয়নি। এরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের কাছে মিথ্যা কথা তুলে ধরছে। এদের পরিচয় এরা মিথ্যাবাদী।’
প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখতে চায়। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন-তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। ওই রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদেরকে কীভাবে অসম্মানিত করেছে। তাদের খারাপ ভাষায় অসম্মানিত করেছে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন কর্মমুখী মহিলা। তিনি ছিলেন একজন মহিলা ব্যবসায়ী। আজকে যাদের নেতা বাংলাদেশের নারীদের একটি খারাপ কিছুর সঙ্গে তুলনা করেছেন, তারা বলে তারা ইসলাম কায়েম করবে।’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায়, যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনকভাবে কথা বলে, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন- নির্বাচনে যদি তারা কোনোভাবে সুযোগ পায়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাহলে তাদের আচরণ কি হতে পারে? কাজেই এরা শুধু নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতন করে ধর্মকে ব্যবহার করে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের দলেও নারী কর্মী আছে। তাদের দলের নারী কর্মীদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা যে ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে যাচ্ছেন, ঘর থেকে বের হয়ে যে নারী কাজে যায়, তাদেরকে আপনাদের নেতা কিসের সঙ্গে তুলনা করেছে? আপনারা চিন্তা করে দেখুন।’
তিনি বলেন, যে দলের নেতা নিজ দলের নারী কর্মীদের এভাবে অপদস্থ, অপমানিত করতে পারে’ সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ নারীদের, মা বোনদের কীভাবে অপদস্ত অপমানিত করবে। এর উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালে দেখেছিলাম। এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনদের অসম্মানিত করেছিল এই দলটির পূর্বসূরী নেতৃবৃন্দ। যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই, মানুষের কাছে সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকের বাংলাদেশের মা-বোনদের বলব, যারা আপনাদেরকে এভাবে অপমানিত করে তাদের আপনারা কীভাবে জবাব দেবেন আজ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, খুলনা সাতক্ষীরা ছিল একসময় শিল্প নগরী কিন্তু আমরা দেখছি গ্যাস ও বিভিন্ন কারণে আজ শিল্পনগরী মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই শিল্পনগরীকে আবার জীবিত শিল্পনগরীতে পরিণত করতে চাই, যাতে সেসব শিল্পে শুধু পুরুষরা না, নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেভাবেই আমরা এই অঞ্চলের শিল্পনগরীকে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, বেকার তরুণ যুব সমাজ বিশেষ করে যারা আইটিতে কাজ করে তাদের জন্য আইটি পার্কসহ আরও সুবিধা গড়ে তুলতে চাই যার মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেহেতু বিশ্বাস করি এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না, সেজন্যই আমরা বলেছি বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গৃহিণী মায়েদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একইভাবে কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ পেতে সুবিধা হবে, প্রয়োজনে কীটনাশক বীজ সার পৌঁছে দেব। একইসঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, আমরা সুদসহ তা মওকুফ করব।
একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, ভোট গণনা করতে এবার অনেক সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র কিন্তু শুরু হয়েছে। যারা সকাল-বিকাল মিথ্যা বলছে, নারীদের হেয় করছে, তারা বিভিন্ন ছলছাতুরির চেষ্টা করছে। ভোট নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন তিনি।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সংসদ সদস্য প্রার্থী আলী আজগর লবী, আমীর এজাজ খান, মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





