চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম (অব.)-এর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ, বিক্ষোভ মিছিল এবং তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলডিপি ক্ষুব্ধ।
ড. অলি আহমদের ছেলে এবং এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির মহাসচিবের কাছে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়ে রোববার (৫ এপ্রিল) আবেদন করেছেন।
ওমর ফারুকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৪ এপ্রিল বিকাল ৪টার দিকে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন হিংসাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এতে ‘এলডিপির আস্তানা জ্বালিয়ে দাও’, ‘পুড়িয়ে দাও’ সহ নানা ধ্বংসাত্মক স্লোগান দেওয়া হয় এবং তার নাম ও ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডও ধ্বংস করা হয়।
চিঠিতে প্রশ্ন করা হয়েছে, এই কর্মসূচি কি ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের কোনো বক্তব্য বা কটূক্তির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তবে সেই বক্তব্যের পূর্ণ উদ্ধৃতি, তারিখ, স্থান ও প্রেক্ষাপট কী? এছাড়া, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে এই কর্মসূচি নেওয়ার অনুমোদন দলীয়ভাবে কি দেওয়া হয়েছিল? কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে?
ওমর ফারুক আরও উল্লেখ করেছেন, যদি উপরোক্ত অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ না হয়, তবে এটি একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মানহানি, উসকানি এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের শামিল হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরীক এলডিপি’র প্রার্থী ওমর ফারুক অল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপি’র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, অলি আহমদ বীর বিক্রম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিএনপির কয়েক সিনিয়র নেতাকে নিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। বিএনপিতে থাকাকালীন তিনি চার দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এলডিপি প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজ এলাকায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





