লাগামহীন নিত্যপণ্যের দামে নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাস

শেয়ার করুন

সরোজ আহমেদ : সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে সব সবজির দাম বাড়তি। শতক ছাড়িয়েছে বরবটি, করলা, বেগুন ও টমেটো। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা প্রতি কেজি। আলু ও পেঁয়াজের দামও বাড়তি। এর পেছনে টানা বৃষ্টিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মুরগি ও ডিমের দাম কমেছে সামান্য।

শুক্রবার (৫ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার, বকশির হাট, চকবাজার, কর্ণফুলী কমপ্লেক্স, বহদ্দারহাট ও কাজীর দেউড়ি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজারগুলোতে প্রতি কেজি টমেটো ১৫০ টাকা, গাঁজর ১৪০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১৩০-১৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা ও বেগুন ১২০ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০, ঢ্যাঁড়শ ৭০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা ও আদা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, সোনালি ৩০০ এবং দেশি মুরগি ৪৮০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ-মাংসের দাম। গরুর মাংস ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া আকারভেদে রুই ২৬০ থেকে ৩৬০, কাতল ৩২০ থেকে ৩৬০, মৃগেল ২০০-২৫০, পাঙ্গাস ১৮০-২২০, তেলাপিয়া ২০০-২২০, বাগদা চিংড়ি ৮০০, রূপচাঁদা আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০, পোয়া মাছ ২৫০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, সুরমা ৩৫০ থেকে ৫৫০, নারকেলি মাছ ২৫০ টাকা ও টেংরা ৩৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।

বকশির হাটের সবজি বিক্রেতা মারুফ বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে সবজির বাজার ২০-৩০ টাকা বেশি। এর প্রধান কারণ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি। সরবরাহ খরচ বেশি হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে দাম কিছুটা কমে আসবে।

তবে কাঁচা মরিচের দাম এতো বেশি হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই একটু সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। সরবরাহ ও চাহিদার সমন্বয় না থাকলে যেকোনো বাজারেই দামের তারতম্য হয়। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই সেটা কাজে লাগাতে চায়।’

কারওয়ান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাছ-মাংস খাওয়া তো আগেই কমিয়েছি। সবজির বাজারও যদি হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়, আমরা সাধারণ মানুষ কী খেয়ে বাঁচব!’

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top