মেয়রের অনুপস্থিতিতে হাট ইজারা ভাগাভাগি করল চসিক-চউক!

১ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারী সংস্থাগুলো মধ্যে রাজস্ব ভাগাভাগি করার নিয়ম না থাকলেও সিটি মেয়রের অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) তাদের একটি মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ রাজস্ব চেয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কাছে।

আইনগত অনুমোদন না থাকলেও অযৌক্তিক এই শর্তেই রাজি হয়েছেন চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। এই নিয়ে নগরবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইন অমান্য করে মেয়র রেজাউল করিম বিদেশে থাকা অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতে চসিককে রাজস্ব কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্ত আইনের ব্যত্যয় ঘটবে বলে চসিক কর্মকর্তারা মনে করেন।

নগরবাসীদের মতে, ১৮৮৬ সালে স্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দর দেশের রাজস্ব আয়ে বিশাল ভুমিকা রাখলেও লভাংশের মাত্র ২% ভাগ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছে। প্রয়াত সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এনিয়ে জোরালো প্রচেষ্টা চালালেও রাজস্ব ভাগাভাগির আইনগত অনুমোদন না থাকার দোহায় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের এই যৌক্তিক দাবী থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ বন্দরের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সেই সিটি কর্পোরেশন এবার পশুর হাট বসানোর অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে চউককে ৫০ শতাংশ রাজস্ব দেয়ার শর্ত নীতিগত ভাবে মেনে নিয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী আলোচ্য পশুর হাটের ইজারার ২ কোটি ২১ লাখ টাকার অর্ধেক পরিশোধ করতে হবে চউককে। এ নিয়ে কর্পোরেশনের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২১-মে তারিখে স্থানীয় দৈনিকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত আউটার রিং রোড সংলগ্ন বালুর মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের টেন্ডারে হারুন অর রশীদ নামে এক অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২ কোটি ২১ লাখ টাকায় এই হাটের ইজারা পান। যা গতবছর মাত্র ১৫ লাখ টাকার নীচে ইজারা দিয়েছিল চসিক। এবছর ইজারা দর বেড়েছে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ৫ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ১০ দিন পশুরহাট বসানো যাবে।

এর আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের মালিকানাধীন এই মাঠে হাট বসানোর অনুমতির জন্য একটি শর্ত জুড়ে দেয়। যাতে বলা হয় ‘মোট রাজস্ব আদায়ের ৫০ শতাংশ চউককে প্রদান করতে হবে।’ এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন চউকের সচিব মো. মিনহাজুর রহমান।

অভিযোগ উঠেছে, চসিক এর পত্রিকায় দেয়া নিজেদের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির শর্ত লঙ্ঘন করে চসিক সিডিএকে উক্ত পশুর হাটের আদায়কৃত রাজস্বের ৫০% শতাংশ পরিশোধ করার শর্তে সিডিএ বালির মাঠ অস্থায়ী ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে ইজারাদার হারুনকে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে।

এতে করে চসিক এর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে যা অবৈধভাবে ইজারাদার এর মাঠ থাকা স্বত্বেও ইজারাদার এর জন্য আরেকটি মাঠের ব্যবস্থা চসিক নিজ দায়িত্বে করার কারণে সংঘটিত হচ্ছে।

চসিকের সাধারণ ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্টরা জানান, চউক বা যে কোনো সংস্থা থেকে মাঠ ভাড়া বা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তা ইজারা দিতে পারে সিটি কর্পোরেশন। এ ক্ষেত্রে ভাড়া বাবদ অর্থ প্রদান করা যেতে পারে। কিন্তু চসিক যে রাজস্ব পাবে হাটের ইজারা থেকে সেই রাজস্ব ভাগাভাগি করার কোন সুযোগ নেই আইনে। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে চউকের অযৌক্তিক শর্ত চসিক মেনে নিল কার স্বার্থে- এমন প্রশ্ন তোলেন তারা। ৫ জুন ইজারাদারকে প্রদত্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করেন চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, ‘কোনো সংস্থার সঙ্গে রাজস্ব শেয়ার করা বা রাজস্বের নির্দ্দিষ্ট শতাংশ অর্থ প্রদানের কোনো সুযোগ আইনে নেই। তবে চউক পশুর হাট ইজারার বিপরীতে ৫০ শতাংশ রাজস্ব প্রদানের শর্ত জুড়ে দিলেও সেই শর্ত মানতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যেহেতু দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাই রাজস্ব শেয়ারের পরিবর্তে মাঠ ভাড়া বাবদ হয়তো কিছু টাকা দেওয়া হবে। তা ১০-১৫ শতাংশ হতে পারে। ইতোমধ্যে ইজারার অর্থ সিটি করপোরেশনের কোষাগারে জমা হয়ে গেছে।’

চাটগাঁ নিউজ/এসআইএস

Scroll to Top