বাবা ছেলের শখের ছাদবাগান, মিলছে নিরাপদ পুষ্টি

শেয়ার করুন

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: নুরুল ইসলাম জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। গেল ২৪ বছর ধরে ব্যবসার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন শখের ছাদ বাগান। ছেলে মো. ফাহিম বাবাকে ব্যবসায় সহযোগিতা করেন। বাবার শখের ছাদ বাগানেও সঙ্গী ছেলে। বাবা-ছেলের শখের ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে ৪০ প্রকারের ফুল—ফল ও সবজি।

শুধু বাড়ির ছাদেই নয়, বাড়ির আশেপাশে নানা প্রজাতির সবজি ও ফলমূলের সমারোহ। বাড়ির পেছনে দৃষ্টিনন্দন পুকুর পাড়েও রয়েছে নানা প্রজাতির ফলমূলের গাছ। নুরুল ইসলামের বাড়ি যেন এক টুকরো সবুজ উদ্যান।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা—কদমতলী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড কদমতলী গ্রামে বাবা ছেলের ছাদ বাগান দেখে অনেকেই এখন ছাদ বাগান শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নুরুল ইসলামের এক একর ভিঠেবাড়ির সর্বত্রই নানা প্রজাতির ফুল, ফল, সবজি ও নানা প্রজাতির গাছপালা। ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একতলা পাকা ভবনের দ্বিতীয় তলার অর্ধেকজুড়ে রয়েছে এই ছাদ বাগান। বাহারি সব ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলমূল গাছ। কি নেই তার বাগানে—সারি সারি বেগুন, টমেটো, মরিচ, লাউ, কুমড়ো, পুঁই শাক, লাল শাক, কলমী শাক, সিম, মূলা, বিলাতি ও দেশি দনিয়া পাতা, পুদিনা, ঢেঁড়শসহ নানা প্রজাতির সবজি।

বাগানে রয়েছে ড্রাগন, আখ, ভূট্টা, জামবুরা, ডালিম, কমলা বিভিন্ন প্রজাতির আম, জাম, পেয়ারা, লেবু, আমলকী, পেঁপে, বেল, আতা, বরই আরও অনেক ধরনের ফল গাছ। সব গাছেই ফলন এসেছে। ফলনে টুইটুম্বুর নুরুল ইসলামের ভিঠার সর্বত্র। ভবনের নিচেও শোভা পাচ্ছে পেঁপে, শিমগাছ। পুকুরে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘরের আঙ্গিনায় লাগিয়েছেন মূল্যবান শেগুন গাছসহ নানা বৃক্ষরাজী।

নুরুল ইসলাম জানান, ১৯৯৩ সালে একতলা পাকা ভবনটি তৈরি করেন। ২৪ বছর ধরে পরম যত্নে এই বাগান করে যাচ্ছেন তিনি।

ছাদ বাগান করে বিষমুক্ত নিরাপদ ফলমূল ও সবজি খেতে পারছেন উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসার কাজের পর যেটুকু সময় পাই এর অধিকাংশ সময় বাগানেই কাটাই। বাগানের প্রতিটি গাছকে নিজের সন্তানের মতই যত্ন করি। ফলে ভাল ফলন পাচ্ছি। তাতে আমার পরিবারের নিরাপদ পুষ্টির যোগান হচ্ছে।

তিনি বলেন, ছাদ কৃষিতে ছাদের কোন ক্ষতি নেই। তবে খালি ছাদে দীর্ঘ মেয়াদি মাটি ব্যবহার করে কিংবা সহায়ক কিছু না দিয়ে ড্রাম কিংবা টব বসালে ছাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ফাহিম বলেন, রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার যতটা পাকা ভবন আছে, সবাই যদি এভাবে ছাদবাগান করে তবে এক হিসাবে দেখা গেছে ৪০ লাখ মানুষের প্রয়োজনীয় সবজির যোগান দেয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, বাড়ির ছাদ বাগানকে সরকার উৎসাহিত করছে। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় এধরনের চাষাবাদে আগ্রহীদের পাশে আছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top