রমজানের শুরুতেই বাজার নিয়ে বাড়তি চাপে মানুষ

শেয়ার করুন

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বছরজুড়েই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে হাহাকার লেগে থাকে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের। অবস্থার পরিবর্তন হয় না রমজান মাসেও। রোজার দিনগুলোতেও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য থাকে লাগামহীন। অথচ প্রতিবারই রমজান এলে সরকার থেকে বলা হয়, রমজানে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করা হবে। বলা হয়, রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। কিন্তু বাস্তবতা তথৈবচ। আদতে ঘটে না আশ্বাসের প্রতিফলন।

আজ মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রমজান শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের দাম।

সরেজমিনে নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার, বকসির হাট, বহদ্দারহাট কাচা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে,  প্রতি কেজি বেগুন ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লেবুর প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ভালো মানের শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০- ১২০ টাকা কেজিতে। ৭০- ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ক্ষিরা। কাঁচামরিচ বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে। গাজর বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা। দেশি ধনেপাতা ১০০-১২০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।

ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ মুড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা, চিড়া ৮০-৯০ টাকা, পেঁয়াজ ১২০-১৪০ টাকা, রসুন ও আদা ২১০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারভেদে ছোলা কেজিতে ১০৫-১০৭ টাকা, মটর ডাল ৮০-৮৩ টাকা, মসুর ১৩৫ টাকা, খেসারি ১৩০ টাকা, ছোলার ডাল ৯৮-১০০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০  বটাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। এখানে প্রত কেজি ৮০০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। খাসির মাংসের দাম কেজিতে হাজার টাকা, ব্রয়লার মুরগি ২০৫-২১০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা এবং কক মুরগি ৩০০-৩১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফলের বাজারেও লেগেছে আগুন। আপেল কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকা, কমলা মানভেদে ২৫০-৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ২৫০-৩৫০ টাকা, তরমুজ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান আসতেই সব পণ্যেই অন্তত ২০ টাকা বেড়ে গেছে। বড় থেকে সব বাজারেই পণ্যের একই দাম। এজন্য তারা দুষছেন বাজার সিন্ডিকেটকে। প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের ওপর জোর দাবি জানান ক্রেতারা।

কাািজর দেউরি এলাকার বাসিন্দা সরওয়ার আলম বলেন, মানুষের হাহাকার কে দেখে? বাজার পরিস্থিতি খুব খারাপ। এরকম বাড়তে থাকলে, সাধারণ মানুষকে না খেয়ে মরতে হবে।

তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে বলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আড়তে দাম না কমলে তাদের দাম কমানোর সুযোগ নেই।

চাটগাঁ নিউজ/এমআর/এসএ

Scroll to Top