ট্রেনেও বিমানের সেবা—ডাক দিলেই হাজির ‘ট্রেনবালা’

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিমানের যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান বিশেষ ড্রেস পরিহিত ‘বিমানবালা’। যাত্রার শুরুতে থেকে শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত ছুটে আসেন তারা; সেবা দেন সাধ্যমতো। এখন সেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে ট্রেনেও। তবে রেলওয়ের ভাষায় তাদের বলা ‘ট্রেন স্টুয়ার্ড’।

ট্রেনে নতুন এবং চমকপ্রদ এই সেবা প্রথম শুরু হয় ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনে। ১ ডিসেম্বর ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চালু হওয়া এই ট্রেনে যাত্রীদের সেবায় ট্রেনবালাদের নিয়োগ করা হয়। পরে ১০ জানুয়ারি একই রুটের ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ও ২ জানুয়ারি একই রুটের ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ ট্রেনেও ট্রেনবালারা দিন-রাত যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করছেন। অর্থাৎ তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীসেবায় এসব তরুণী দায়িত্ব পালন করছেন।

তারা যাত্রীবান্ধব অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিনয়, ভদ্রতায়ও তারা এগিয়ে আছেন। এক কথায় বলা যায়, বিমানের মতো ট্রেনেও এখন সেবা মিলছে ট্রেনবালার। যাত্রীরাও তাদের প্রশংসা করছেন। এ তরুণীরা যেমন স্মার্ট, তেমনি প্রশিক্ষিত ও দায়িত্ববান। ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিতেও এ তরুণীরা অনায়াসে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করছেন।

রাত-দিন ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কয়েকজন তরুণী জানিয়েছেন, রাত-দিন ট্রেনে কাজ করা চ্যালেঞ্জের। কারণ ট্রেনে উঠা-নামা থেকে শুরু করে সেবা নিশ্চিত করা ঝুঁকিরও। প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ না করতে পারলে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। যাত্রীদের ভালো-মন্দ, ট্রেনের ভেতর তাপমাত্রা কমানো-বাড়ানোর মতো নানা বিষয় থাকে। কোনো কোনো যাত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হলে কিছুটা রেগেও যান। কিন্তু এ তরুণীরা তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারি দিয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করছেন।

ট্রেনে সদ্য নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রামের তরুণী আনিকা আক্তার। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। রাত-দিন চলন্ত ট্রেনে কাজ করতে হবে-এমনটা জেনেই এ পেশায় এসেছি। নারীরা ট্রেন চালাচ্ছেন, নারীরা ট্রেন যাত্রীদের সেবাও নিশ্চিত করবেন। এক একটি ট্রেনে ন্যূনতম ২৫ তরুণী চাকরি পেলে দেশের ১০৪টি ট্রেনে ২৬০০ তরুণী চাকরি পাবেন। এতে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’

কেমন সাড়া পাচ্ছেন বা বাজে মন্তব্য শুনতে হচ্ছে কি না প্রশ্নের জবাবে ২৩ বছর বয়সী আনিকা বলেন, ‘ কে কী বললেন, তা শুনলে চলবে না। তবে ট্রেনের যাত্রীরা বেশির ভাগই ইতিবাচক মন্তব্য করেন, শুভেচ্ছা জানান। কেউ কেউ বাজে মন্তব্য কিংবা বাজে ইঙ্গিতও করেন। তবে সংখ্যাটা একেবারেই নগণ্য।

ট্রেন স্টুয়ার্ড (ট্রেনবালা) পদে নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এইচএসসি পাস। বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এখন পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া নারীদের বেশির ভাগেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ রেলওয়ে অনবোর্ড ক্যাটারিং সার্ভিস প্রোভাইডার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তালিকাভুক্ত দুটি সংস্থা এখন পর্যন্ত নারীদের নিয়োগ দিয়েছে। এই নারীরা নির্দিষ্ট পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই নারীরা বেতন পাচ্ছেন ১৫ হাজার টাকা করে। দায়িত্ব পালনের সময় থাকা-খাওয়ার সব খরচ বহন করছে নিয়োগ দেওয়া বেসরকারি সংগঠনগুলো।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘ট্রেনে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া এসব নারীর পদবি স্টুয়ার্ড। তবে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা তাদের ট্রেনবালা বলেই ডাকছেন। আমরা ট্রেনবালা বলেই নিশ্চিত করছি। তরুণীদের পোশাক থেকে শুরু করে ব্যবহার ও সেবার ধরন-সবই বিমানবালার মতো। আমরা বিমানবালার মতো তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলেছি। এতে দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।’

রেলওয়ে ক্যাটারিং-অনবোর্ড সার্ভিস প্রোভাইডার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর তাদের আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করি। এখন তাদের ট্রেনে যুক্ত করা হচ্ছে। নারী হিসেবে যাতে তারা কোনো সংকোচ না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখছি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আমরা দেখছি।’

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top