টেকনাফে ‘আরসা’র সামরিক কমান্ডারসহ গ্রেপ্তার ৬

শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কক্সবাজারে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সামরিক কমান্ডার নুর মোহাম্মদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার গহীন পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৭টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরসার অপর পাঁচ সদস্য হলেন- মোহাম্মদ হোসেন জোহার (৩০),মো. ফারুক হারেস (২৩), মনির আহাম্মদ (৩৬), নূর ইসলাম (২৯) এবং মো. ইয়াছিন (২১)।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, টেকনাফের গহীন পাহাড়টিতে আরসা সন্ত্রাসীরা গোপন আস্তানা তৈরি করে “টর্চার সেল” গড়ে তুলেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে প্রথমে আরসার সামরিক কমান্ডার নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্যাম্পে আরসার ৪৫০ জন সদস্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সক্রিয় আছেন। তাদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানরা অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। ২০১৭ সালের আগে চার লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে দমন অভিযান শুরুর পর এই সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অধিকাংশই কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার আশ্রয় শিবিরে থাকছে।

রোহিঙ্গারা এখন শুধু তাদের নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নেই। তারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় রোহিঙ্গারা এখন বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

মাদক চোরাচালান, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডসহ নানাবিধ অপরাধে রোহিঙ্গাদের জড়ানোর খবর এখন প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে।

গত সাড়ে পাঁচ বছরে শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১৩২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সম্প্রতি সংসদীয় একটি কমিটির বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

Scroll to Top