‘আ.লীগের প্রতিনিধি দল ভারতে যাওয়ায় বিএনপি নেতাদের ঘুম নেই’

শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘চার-পাঁচ দিন ধরে দেখছি সুর নরম হয়ে আসছে। এক দফারও বেলা শেষ। দম ফুরিয়ে আসছে। চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে তারা। শুকিয়ে গেছে চোখ-মুখ। আমাদের প্রতিনিধিদল ভারত যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় বিএনপি নেতাদের ঘুম নেই। ভারত আমাদের বন্ধু, বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে। প্রভু নেই। কোনো প্রভু আমাদের ক্ষমতায় বসাবে না, আমাদের ক্ষমতায় বসাবে বাংলাদেশের জনগণ।’

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘বাংলার মাতা, বাংলাদেশের নেতা’ শীর্ষক ছাত্রী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের এ সব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই বছর ২২ দেশে ইলেকশন হচ্ছে। বাংলাদেশ কী এমন দেশ যে ইইউ, জাতিসংঘ, আমেরিকা সবাই ঘুরে ফিরে এখানে আসে। আমরা কি বিপদে আছি। নাইজার সোমালিয়া কঙ্গো ওইসব দেশের খবর নেই। প্রতিদিন সুদানে জেনারেলদের সংঘর্ষের বলি হচ্ছে নিরীহ মানুষ, সেখানে প্রতিদিন লক্ষ মানুষ রিফিউজি হচ্ছে, এইসব নিয়া কার কী মাথাব্যথা।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হচ্ছে। ক্যাবিনেটে প্রস্তাব পাস হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনা এখনও আসেনি। কিন্তু এ সরকার জনগণের সরকার। এ সরকার বিবেকের সরকার। একটা কাজ করব, আমার সিদ্ধান্তটা সঠিক কি বেঠিক, এটা আমি জনগণের কাছে শুনবো। সেখানে যদি কোনো কারেকশনের দরকার হয়, সেটা আমি করব। এটাই জনগণের সরকার। এ শেখ হাসিনার সরকার।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের রাজনীতিটা কেমন হয়ে গেছে। আদর্শ কোথায়, গণতন্ত্র কোথায়, মূল্যবোধ কোথায়, মানবাধিকার কোথায়। মনে মনে ভাবি আর অবাক হই, দেখেশুনে অবাক হই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে যারা গণতন্ত্র, মানবাধিকারের মাতব্বর। তাদের নিজেদের দেশে গণতন্ত্র মানবাধিকার কেমন আছে—যাদের দেশে বছরে দুইশতের বেশি গুলির ঘটনা ঘটে। যারা আমাদের পরামর্শ দেয়, তারা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারে না কেন? দুষ্ট ছেলে ইসরায়েলকে তো কেউ কিছু বলে না। ফিলিস্তিনে রোজ বোমা ফেলে, শিশু নারী সাংবাদিকের রক্ত ঝরে। এসব প্রশ্ন কার কাছে করব?’

তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘সে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পলায়ন করেছে। আর রাজনীতি করবে না লিখিত দিয়ে লন্ডনে চলে গেছে। এখন রাজনীতিই করে না, প্রতিদিন বক্তব্য দেয়, পরামর্শ দেয়। আদালত বলেছে তার সাজা হয়েছে তার মন্তব্য বক্তৃতা কোনো প্রচার হবে না। আদালত অবমাননা করে কেন প্রতিদিন…কে তাকে দুঃসাহস দিয়েছে, আজকে সে লন্ডনে বসে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার করছে, মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। এ সব প্রশ্নের জবাব আমি পাই না।’

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Scroll to Top