আনোয়ারা খাতুনের খোঁজ রাখে না কেউ,ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা

শেয়ার করুন

বোয়ালখালী প্রতিনিধি: বাঁশের কয়েকটি খুঁটির উপর দাঁড় করানো ছোট্ট একটি ঝুপরি ঘর। পুরনো ঢেউটিন আর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো নড়বড়ে এ ঘরটিতে মানবেতর দিন কাটছে আনোয়ারা খাতুনের।

প্রায় ৫০বছর বয়সী এ মহিলা স্বামী সংসার হারিয়ে বর্তমানে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে কোনো রকম জীবনের ঘানি টেনে যাচ্ছেন। বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা ১নং ওয়ার্ড এলাকার আতর আলীর বাড়ির মৃত হামজু মিয়ার মেয়ে আনোয়ারা খাতুনের ভাগ্যে এখনো পর্যন্ত জোটেনি সরকারি কোনো ভাতা।

সোমবার  (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আনোয়ারা খাতুনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার জীবনের দুর্বিষহ কষ্টের ইতিহাস। তিনি জানান, প্রায় ৩২ বছর আগে পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার মৃত মোঃ এয়াকুবের সাথে বিয়ে হয় ৫ বছর সংসার করে মানসিক সমস্যার কারণে আর সংসার করা হয়নি চলে আসে বাপের বাড়ি। নেই কোন সন্তান।শুধুমাত্র বসত ভিটেটুকু ছাড়া অন্য কোনো সহায়-সম্পদ নেই।

তিনা আরো বলেন, পৃথিবীতে আমার কেউ নাই, ঘর নাই,খাবার নাই। আমাকে দেখার মতো কেউ নাই। সরকারি কোনো কার্ডও নাই। তাই সরকার যেন একটি ঘর তৈরি করে দিয়ে এবং একটি ভাতার কার্ড করে দিয়ে শেষ জীবনের নিরাপত্তা দেয় সে জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ নিয়ে প্রতিবেশী আজিজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আনোয়ারা খাতুন সত্যি চরম অসহায় ও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। যে ঝুপরি ঘরটিতে বাস করছেন যে কোনো সময় ঝড়-তুফানে সে ঘরটিকে উড়ে যেতে পারে। এ অসহায় বৃদ্ধা কোনো সরকারি ত্রাণ বা কোনো ভাতার আওতায়ও আসেননি। আমরা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি, তাকে দ্রুত সরকারি ভাতার একটি কার্ড এবং নিরাপদভাবে থাকার মতো সরকারি একটি ঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ মোজাম্মেল হক মানিক বলেন,অসহায় এ মহিলাকে একটি ভাতার কার্ড করে দেয়া হবে এবং ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে তাকে একটি ঘর করে দেয়ারও ব্যবস্থা করা হবে।

Scroll to Top