আনোয়ারা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের একটি আলোচিত ডেইরি খামারে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস এবং তালা ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার লাবিবা ক্লাবের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার করাইয়াঘোনা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (২৬), একই উপজেলার ইসলামনগর গ্রামের মৃত ডা. জহির আহমেদের ছেলে আল মামুন তুষার লিটন (৩১) এবং চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা গরু ব্যবসায়ী মো. মানিক হক (৪৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল উপজেলার বারশত ইউনিয়নের বণিকপাড়ায় অবস্থিত ‘দীপক ডেইরি ফার্ম’-এ হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে খামারের মালিক দীপক মালাকার, তাঁর স্ত্রী এবং দুই কর্মচারীর হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে।
পরে ডাকাতরা ঘর তছনছ করে নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং খামারে থাকা পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ২ জুলাই আনোয়ারা থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ইয়াছিন আরাফাত ও আল মামুন তুষার লিটনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে লুট হওয়া গরুর ক্রেতা মো. মানিক হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই ডাকাতের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত চট্টগ্রাম মেট্রো-চ-১১-৪৩৬১ নম্বরের একটি মাইক্রোবাস, একটি লোহার ছোরা, একটি তালা কাটার যন্ত্র এবং একটি লোহার রড জব্দ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ বিভিন্ন থানায় নয়টির বেশি মামলা রয়েছে। অপর আসামি আল মামুন তুষার লিটনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ তিনটির বেশি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন






