বাংলাদেশে বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার, বাড়াতে হবে সচেতনতা

ডা. হাসনিনা আক্তার : প্রতি বছর মার্চ মাস বিশ্বজুড়ে কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। বৃহদান্ত্র (কোলন) ও মলদ্বার (রেক্টাম)–এ হওয়া এই ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বে অন্যতম সাধারণ ক্যানসারগুলোর একটি। বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে এই রোগের প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে, কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারও উল্লেখযোগ্য একটি অংশ দখল করে আছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশে এই ক্যানসার অনেক সময় তুলনামূলক কম বয়সেই দেখা যাচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশে বেশিরভাগ রোগী ৬০ বছরের পরে আক্রান্ত হন, সেখানে বাংলাদেশে অনেক রোগী ৩৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সের মধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কোলোরেক্টাল ক্যানসারের বড় একটি সমস্যা হলো, রোগটি শুরুতে খুব বেশি লক্ষণ দেখায় না। তবে কিছু লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন— দীর্ঘদিন ধরে পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন হওয়া, মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাওয়া, পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন দুর্বলতা বা রক্তস্বল্পতা। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে কোলোরেক্টাল ক্যানসার দেরিতে ধরা পড়ার একটি বড় কারণ হলো নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের অভাব। উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত কোলনোস্কপি বা মল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সচেতনতার অভাব, পরীক্ষা সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং অনেক সময় লজ্জা বা ভয় কাজ করায় অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে চান না। ফলে অনেক রোগী তখনই চিকিৎসকের কাছে যান, যখন রোগটি ইতোমধ্যে জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

জীবনযাপনের পরিবর্তনও এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এই রোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্ডোস্কপি ইউনিটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডায়াগনস্টিক ও থেরাপিউটিক এন্ডোস্কপি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার শনাক্তের সুবিধা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পেট ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদাসীন থাকার সুযোগ নেই। সচেতনতা বাড়ানো, সময়মতো পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে।

কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পেট ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদাসীন থাকার সুযোগ নেই। সচেতনতা বাড়ানো, সময়মতো পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top