ছয় দিনেও নেভেনি ইনানীর আগুন, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করবে বাপেক্স

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির গভীর থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন ছয় দিনেও নেভেনি। আজ রোববার (১ নভেম্বর) রাত ১০টা পর্যন্ত গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আগুন নেভানোর বিষয়ে এখনই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের শিখার অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ রোববার সন্ধ্যায় বাপেক্সের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এর আগে গত শুক্রবার পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূতাত্ত্বিক বিভাগের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো গ্যাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ফরমেশন গ্যাস। আজ (রবিবার) ঘটনাস্থলে পানির উপস্থিতি দেখা গেছে। পানির উপস্থিতি থাকলে ধীরে ধীরে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে গ্যাসটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এত কম গভীরতায় গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সাধারণত ২ হাজার থেকে ৪ হাজার মিটার গভীরতার গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হলেও এ ক্ষেত্রে কম গভীরতার কারণে নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।’

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের গঠিত কমিটি আগামী ১৫ দিন গ্যাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর পর্যবেক্ষণের ফলাফল ও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলের পাশের দোকানদার নুরুল আমিন বলেন, টানা ছয় দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকায় ইনানী ছোট খাল ও শফিরবিল এলাকার প্রায় ৪০০ পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং ঘটনাস্থলে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আগুনের উৎস অগভীর গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের শিখার রং কালো হওয়ায় গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট নির্গমনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃত উপাদান, উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত হতে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পরও আগুনের শিখা একই রকম থাকলে বা বাড়লে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এ সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top