উখিয়ায় গ্যাসের আগুনে ৪০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ৪ হাজার পরিবার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোস্তফা: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন প্রায় ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলছে। আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে প্রায় ৪ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।

উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, গ্যাসের আগুনের কারণে মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, আগুনের উৎস ও গ্যাসের প্রকৃতি নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞ দল। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দলটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চালায়। বুধবার গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেম্পল সংগ্রহ করেছেন।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলপ্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের আগে গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করতে বা এর চাপ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এতে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় গ্যাসের নির্গমন শুরু হয়। পরে গর্ত থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top