আসামি খালাসের সাড়ে সাত মাস পর সাক্ষীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা, আদালতে গিয়ে মিলল ভুলের তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির একটি মামলায় আসামি খালাস পাওয়ার প্রায় সাড়ে সাত মাস পর এক সাক্ষীর বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। পরোয়ানায় উল্লেখ করা মামলার নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষী থাকা মামলার নম্বরের মিল না থাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আদালতে হাজির হয়ে মো. আব্দুল মতিন নামে ওই ব্যক্তি জানতে পারেন, যে মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তিনি সেই মামলার সাক্ষী নন। অন্য মামলায় ভুল করে তাঁর নাম-ঠিকানা লেখা হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এ হাজির হয়ে বিষয়টি জানতে পারেন আব্দুল মতিন। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (এনবিডব্লিউ) জারি করা হয়। পরোয়ানায় ২৮ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আব্দুল মতিন জানান, কোতোয়ালী থানা থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন, সাক্ষী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এতে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। কারণ, যে মামলার সাক্ষী হিসেবে তাঁকে পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে, সে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাঁকে কখনো তলব করা হয়নি।

আদালতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর সাক্ষী থাকা মামলাটি হলো ১১৩/২৪ নম্বর মামলা। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে ১১০/২৪ নম্বর মামলায়। নাম ও ঠিকানা সঠিক থাকলেও মামলার নম্বরে ভুল হওয়ায় অন্য মামলার সাক্ষীর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আসামি খালাসের পরও পরোয়ানা
ঘটনার আরও বিস্ময়কর দিক হলো, ১১০/২৪ নম্বর মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, ওই মামলার আসামিকে গত ২৭ জানুয়ারি আদালত খালাস দিয়েছেন। অথচ এর প্রায় সাড়ে সাত মাস পর, গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই মামলার সাক্ষী হিসেবে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ঘটনায় আদালতের নথি ব্যবস্থাপনা ও পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যেভাবে মামলার সাক্ষী হন মতিন
আব্দুল মতিন জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি তাঁর মেয়েকে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে পৌঁছে দিতে যান। এ সময় কলেজের গেটে এক যুবককে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে দেখেন। তিনি এর প্রতিবাদ করেন। পরে ওই ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় সাক্ষী হন তিনি।

মতিনের ভাষ্য, মামলার আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেশ কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে ওই ব্যক্তি এখনো ইভটিজিং করে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে ভুল মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন জানিয়ে আব্দুল মতিন বলেন, “যে মামলায় আমাকে কখনো সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি, সেই মামলায় হঠাৎ আমার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর শুনে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারি, এটি আদালতের ভুল। অন্য একটি মামলার সাক্ষীর পরিবর্তে ভুল করে আমার কাছে পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।”

পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য
ভুল পরোয়ানা জারির বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগমের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অহেতুক ওয়ারেন্ট জারি হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। পরে আদালতের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এক মামলার সাক্ষীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং পরোয়ানা জারির আগে মামলার নম্বর ও সাক্ষীর পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top