চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল পাবনার তিন কিশোরী। তবে স্কুলে না গিয়ে তারা চলে যায় পাবনা বাস টার্মিনালে। সেখান থেকে বাসে নাটোর, পরে রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায় তারা। উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় যাওয়া। তবে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলায় তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা সদর থানা-পুলিশ তিন কিশোরীকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর আগে রোববার তারা নিখোঁজ হয়।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন কিশোরীর একজন দীর্ঘদিন ধরে নিজের চেহারা ও চোখের সমস্যা নিয়ে পরিবারের কাছ থেকে নানা ধরনের কথা শুনছিল। এতে তার মধ্যে অভিমান ও ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার চিন্তা করে।
ওই কিশোরী অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখত। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সে সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা দুই সহপাঠীকে জানায়। পরে তারাও তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিটিএস দক্ষিণ কোরিয়ার সাত সদস্যের জনপ্রিয় গানের দল। ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশের পর অল্প সময়েই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারা, পরিণত হয় বিশ্বের আলোচিত ব্যান্ডগুলোর একটিতে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এই ব্যান্ডের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতা রয়েছেন, যাঁরা ‘বিটিএস আর্মি’ নামে পরিচিত।
তিন কিশোরীই পাবনা সদর উপজেলার চর আশুতোষপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং অন্য দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুজন পরস্পরের আত্মীয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন কিশোরীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক। অভিভাবকদের কেউ ফার্নিচারের কাজ করেন, আবার কেউ ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনজন স্কুলে এসে একত্র হয়। এরপর তারা ক্লাসে না গিয়ে অটোরিকশায় পাবনার অনন্ত মোড়ে যায়। সেখান থেকে আরেকটি অটোরিকশায় পাবনা বাস টার্মিনালে পৌঁছে বাসে ওঠে। বাসে প্রথমে নাটোর, পরে রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে যায় তারা।
পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একজন পরিবারের গচ্ছিত প্রায় এক লাখ টাকা সঙ্গে নেয়। সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা রাত কাটানোর জায়গা খুঁজতে থাকে। এ সময় খুঁজতে খুঁজতে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। ওই মহল্লায় তাদের চলাফেরা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের। সেখানে কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজ উদ্দিনের স্ত্রী তাদের দেখতে পান। তিনি কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
পরে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। বিষয়টি এসআই তাজ উদ্দিনকে জানানো হলে তিনি ও তাঁর স্ত্রী কৌশলে কিশোরীদের কাছ থেকে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এদিকে তিন কিশোরী বাড়িতে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাদের সন্ধানে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই বিদ্যালয়ের তিন নাবালিকা একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে পাবনা জেলা পুলিশ।
পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত করে পাবনা পুলিশ। কুড়িগ্রাম সদর থানা-পুলিশের সহায়তায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। কুড়িগ্রাম সদর থানার একজন উপপরিদর্শকের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






