ক্রীড়া ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন আরও জোরালো করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৩ রানের লিড নিয়েছে সফরকারীরা। দিন শেষে ১০৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১ রান।
দিনের শুরুতে তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে বড় লিডের পথে এগিয়ে নেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেন এই ওপেনার।
১৮৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট। তবে সেঞ্চুরি করার পরপরই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
তানজিদের বিদায়ের পরও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন শান্ত। সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন অধিনায়কও। কিন্তু ৮৪ রানে শান্ত আউট হওয়ার পর হঠাৎ ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।
৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে আরও তিন উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয়। নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা তখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন।
নতুন বল হাতে নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত। অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া বলটি ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে যায়। ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর লিটন দাসও দ্রুত ফিরে যান। মিচেল স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে থিক এজ হন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। বল গিয়ে জমা পড়ে স্টিভ স্মিথের হাতে। দলীয় ৩০০ পেরোনোর পর মুশফিকুর রহিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্যাট কামিন্সের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন তিনি।
তবে ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংসকে সামলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে মিরাজকে দারুণ সঙ্গ দেন হাসান। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন।
প্রায় ২৫ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেন তারা। দিন শেষে মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
দিনের শেষ দিকে অবশ্য মিরাজ জীবন পান। মার্নাস লাবুশেনের বলে ক্যামেরন গ্রিন নিচু ক্যাচটি তালুবন্দী করতে পারেননি। বলটি মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ৩২ রানে বেঁচে যান মিরাজ। ওই ক্যাচটি ধরা পড়লে দিনের শেষেই বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটতে পারত।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভ স্মিথ।
তৃতীয় দিনে মিরাজ ও হাসানের জুটি কতটা লিড বাড়াতে পারে, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ১৫৩ রানের লিড নিয়ে ইতোমধ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হাতে নিয়েছে সফরকারীরা। আরও বড় লিড এনে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হবে।
দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর:
বাংলাদেশ: ৩৫১/৬ (১০৮.৩ ওভার) — মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*, তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮।
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ — স্মিথ ৭১; হাসান মাহমুদ ৬/৫৫।
লিড: বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





