লোহাগাড়ায় ৯ অবৈধ করাতকল ঘিরে রহস্য!

লোহাগাড়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন ইউনিয়নে বনাঞ্চলের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি করাতকল। অবৈধ হওয়ার পরও এসব করাতকল দিব্যি চালানো হচ্ছে দেখে রহস্য দানা বেঁধেছে স্থানীয়দের মাঝে!

বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকি ও যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই বন বিভাগের যোগসাজশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব করাতকল এমনটি অভিযোগ স্থানীয়দের।

তারা জানায়, বনাঞ্চলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল অবাধে চললেও নেই কোন কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এতে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে উজাড় করে দিচ্ছে বনাঞ্চল। এর প্রভাবে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ দিনদিন হুমকির মুখে পড়ছে।

জানা গেছে, উপজেলার আধুনগর বাজারের ১০০ মিটারের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৯টি করাতকল। বনখেকোরা রাতের আধাঁর ঘনিয়ে এলে চুনতি ও পদুয়া রেঞ্জের বনাঞ্চল থেকে সেগুন ও আকাশমনিসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে আধুনগর ইউনিয়নের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা করাতকলগুলোতে জমা করে রাখে।

করাতকল বিধিমালা ২০১২ তে বলা আছে, কোন সরকার অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে এমন স্থান এবং সংরক্ষিত বনভূমি বা সরকারি বনাঞ্চলের সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপন করা যাবেনা। নিয়ম থাকলেও এসব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে উপজেলার নয় ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাতকল।

আরো জানা গেছে— উপজেলার আধুনগর বাজারের আশপাশে এসব অবৈধ করাতকলগুলো পরিচালনা করে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন, ইউচুপ, মাইনুদ্দীন, ইয়াছিন, শহীদ, নেচার উদ্দীন, সাইফুল আলম, মিনহাজ নামের তাছাড়াও চুনতি, বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, পদুয়া, চরম্বা, কলাউজান, পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও চুনতি অভয়ারণ্যে এলাকার পাশে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ করাতকল পরিচালনা করে যাচ্ছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

অন্যদিকে অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করায় সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। করাতকলের মালিক পক্ষ বলছেন, করাতকল পরিচালনা করার জন্য কিছু কিছু দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এরমধ্যে এক দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলেও অন্য দপ্তর থেকে অনুমোদন দেয় না। তাই এভাবেই চলছে করাতকল চালাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক করাতকল মালিক জানান, চুনতি ও পদুয়া রেঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় আধুনগর ইউনিয়নের ফার্নিচার মার্কেট অবস্থিত হওয়া উভয় রেঞ্জ বন কর্মকর্তাদের সাথে সমঝোতা করেই ১০০ মিটারের মধ্যে ৯ করাতকলগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ বন কর্মকর্তা আবির হোসেন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি করাতকলগুলো অবৈধ। তাই এগুলোর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা করা হবে।

চাটগাঁ নিউজ/দেশপ্রিয়/জেএইচ

Scroll to Top