উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধ মানবপাচার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সংঘবদ্ধ এই অপরাধচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা এবং উপকূলীয় জনগণকে সচেতন করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন টেকনাফ ও উখিয়ার সাংবাদিকরা।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে টেকনাফের সেন্ট্রাল রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ বিষয়ক সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালায় এ অভিমত উঠে আসে। কর্মশালায় টেকনাফ ও উখিয়ার ৪২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় অভিবাসনের বর্তমান প্রবণতা, মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবপাচার ও মাদকের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষকে সচেতন করে, ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখে এবং নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেয়।
কর্মশালায় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার মানবপাচারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব তুলে ধরে বলেন, মানবপাচার থেকে রাষ্ট্র কোনোভাবেই লাভবান হয় না। বরং এতে বৈধ রেমিট্যান্স কমে যায়, পাচারকারীদের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং সেই অর্থ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়।
তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সমুদ্রপথে মানব পাচারের ঘটনাগুলো স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও সাহসিকতার সঙ্গে অনুসন্ধান করে জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। ভয় পেলে চলবে না, কারণ এই সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকা অপরিহার্য।
এ সময় মানবপাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা টেকনাফের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবের নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হন।
একই দিন বিকেলে টেকনাফে ‘সমুদ্রপথে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক পৃথক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার বলেন, মানবপাচার ও মাদকের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু মাঠপর্যায়ের অভিযান নয়, বরং এসব অপরাধের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম টেকনাফকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ‘রেড জোন’ উল্লেখ করে বলেন, এ অঞ্চলে সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় কক্সবাজারের উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান এবং র্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানাও বক্তব্য দেন।
চাটগাঁ নিউজ/মোস্তফা/এমকেএন






