চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ৪৬টি নিবন্ধিত মণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুটি জুরি প্যানেল বিজয়ীদের নির্বাচন করে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিল্পমান, থিমের গভীরতা, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে ‘শারদ সম্মাননা ২০২৬’ পেয়েছে সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপ। নগরের ৪৬টি নিবন্ধিত পূজামণ্ডপ থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরীর টাইগারপাসে চসিকের নগর ভবনে শারদ সম্মাননা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বিজয়ী মণ্ডপগুলোর নাম ঘোষণা করেন।
নির্বাচিত পাঁচটি পূজামণ্ডপ হলো—গোসাইলডাঙ্গা সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির (থিম: ভাড়), বৈশাখী সংঘের উত্তর কাট্টলী জ্বালাকুমারী বাড়ি (থিম: জল দুয়ার), খলিফাপট্টি সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: রক্তাঞ্জলী), পতেঙ্গা শ্যামা সংঘের হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দির (থিম: যুগান্তরের বার্তাবহন) এবং দক্ষিণ নালাপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: আত্মকথন)।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ৪৬টি নিবন্ধিত মণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুটি জুরি প্যানেল বিজয়ীদের নির্বাচন করে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিল্পমান, থিমের গভীরতা, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। চট্টগ্রাম সবসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির নগরী হিসেবে পরিচিত।’
তিনি বলেন, ‘পূজামণ্ডপের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের স্বীকৃতি দিয়ে আয়োজকদের উৎসাহিত করতে চায় চসিক। নগরীকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্প্রীতিময় করে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন।’
বিচারক প্যানেলের সদস্য চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপের থিম, নান্দনিকতা ও শিল্পভাবনা ছিল প্রশংসনীয়। সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে সেরা নির্বাচন করা ছিল আমাদের জন্য বেশ দায়িত্বপূর্ণ।’
আরেক বিচারক চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত বলেন, ‘নান্দনিক রূপায়ণ, ঐতিহ্য রক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সার্বিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি।’
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি এ উদ্যোগকে অসাধারণ উল্লেখ করে বিজয়ী মণ্ডপগুলোর আয়োজকদের অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ‘নান্দনিকতা, প্রতিমাশিল্প ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ী মণ্ডপগুলো শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। নগরের প্রতিটি মণ্ডপের আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যেভাবে সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রেখেছেন, তা-ও প্রশংসনীয়।’
এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ ও দীপক দত্ত, আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী, নাট্যজন ও বাচিকশিল্পী বাপ্পা চৌধুরী ও কংকন দাশ, দৈনিক সমকালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাছির উদ্দিন হায়দার, সাংবাদিক ফারুখ তাহের, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অনুপম পার্থ এবং চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক প্রিয়াংকা বড়ুয়া।
‘শারদ সম্মাননা ২০২৬’-এর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক অনিমেশ কুমার চক্রবর্তী। পর্ষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কবি ও সাহিত্যিক ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. প্রকাশ দাশ গুপ্ত, কবি ও নজরুল গবেষক বাবলা চৌধুরী, মিডিয়াগ্রাফি অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মিল্টন দাশ বিজয় এবং অভিজিৎ অভি।
সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন শোভন রাজা, শ্রাবণ দাশ ও আদিত্য দাস।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






