কোরবানির আগে আদা নিয়ে দাদাগিরি, খাতুনগঞ্জে দুই আড়তকে জরিমানা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : ঈদুল আজহাকে ঘিরে চীনা আদার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে খাতুনগঞ্জের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কয়েকদিন আগেও যে আদা বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায় শনিবার থেকে তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা।

রোববার (১৭ মে) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে মায়ের দোয়া ও আল আরব বাণিজ্যালয় নামের দুইটি আড়তকে জরিমানা করেছে ৮০ হাজার টাকা।

দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে আড়তদাররা বলছেন, দেশি আদা নেই বাজারে। দুই-এক মাস আগেও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আদা আসতো। হঠাৎ করে প্রতিবেশী দেশে আদা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আসছে না। তাই আদার দাম একটু বেড়ে গেছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, গত সপ্তাহ বা ১০ দিনের ব্যবধানে চীনা আদা ৭০-৭৫-৮০ টাকা বেড়ে গেছে কেজিপ্রতি। তারা কাদের কাছ থেকে পণ্য কিনেছে ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি। তারা কমিশন এজেন্ট দাবি করে। পণ্য কাদের জানতে চাইলে বলেন, অমুক ব্যক্তির, নাম্বার আছে। নাম্বারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আসতে পারছেন না। সেকেন্ড হ্যান্ড বায়ার চট্টগ্রামের ঠিকানা দিতে পারছেন না। তিনি আবার দাবি করছেন আমদানিকারক ভাউচার দিচ্ছেন না। তারা আমাদের পরবর্তী ধাপে যেতে সাহায্য করছে না।

তিনি বলেন, ভাউচার অনুযায়ী, ডকুমেন্ট অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ ছিল, সেটাই আসলে যুক্তিযুক্ত ছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ক্রমাগত কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা বেড়েছে। ভাউচার না রাখা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। যারা পণ্য সরবরাহ দিচ্ছে তারাও জানে এটা অন্যায় করছে। আমদানিকারক ভাউচার দিলে, সেকেন্ড হ্যান্ড বায়ার ভাউচার দিলে শৃঙ্খলা থাকতো। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের জন্য সহজ হবে। সতর্কতামূলক দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা করে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছি।

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৫ হাজার ৫৩৮ টন আদা ছাড়পত্র পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আদা আমদানি হয়েছিল মাত্র ২৬ হাজার ২৩০ টন।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top