সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে: নওফেল

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রতিরোধে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলা উস্কে দিতে গুজব সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। অনেক সময় ধর্মীয় উৎসবে অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। যার সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক থাকে না। উৎসবে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণের ব্যাপারেও আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

মঙ্গলবার (২০ জুন) নগরীর নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও গৌর নিতাই আশ্রম সম্মুখে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) আয়োজিত ২৬তম কেন্দ্রীয় রথযাত্রার মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কখা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলা উস্কে দিতে গুজব সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। অনেক সময় ধর্মীয় উৎসবে অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। যার সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক থাকে না। উৎসবে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণের ব্যাপারেও আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

নওফেল বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে গিয়ে আমরা যে রাজনৈতিক যুদ্ধে রয়েছি, এই যুদ্ধ অত্যন্ত কঠিন। এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সমাজে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক, তাদের শিকড় যতই গভীরে থাকুক না কেন, সেটির মূল উপড়ে ফেলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, মন্দিরের জায়গা দখল করবেন সাধু সন্ন্যাসীদের নামে মামলা হামলা করবেন এটা আমরা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবো না। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে বারবার বাধা সৃষ্টি করছে। জামায়াত-বিএনপির মতো উগ্র সাম্প্রদায়িক দলগুলোর অবস্থান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এখনো বড় বাধা।’

নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে ও তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় রথযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ইসকনের হেডকোয়ার্টার ভারতের মায়াপুর হতে আগত ইসকনের অন্যতম সন্যাসী শ্রীমৎ ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী মহারাজ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর সেন, চট্টগ্রাম মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন তালুকদার, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশিষ ভট্টাচার্য, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কাউন্সিলর জনাব সলিমুল্লাহ বাচ্চু, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, জন্মাষ্টমী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সহ সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, মহিলা কাউন্সিলর নিলু নাগ, মহিলা কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইসকন মোহরা মন্দির অধ্যক্ষ সর্বমঙ্গল গৌর দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের সহ সভাপতি অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।

Scroll to Top