সবার নাকি নজর লাগে যার কারণে, বাচ্চার ছবি ফেসবুকে দেওয়া যাবে না : মাহি

শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক:চলতি বছর মার্চে পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন ঢাকাই ছবির নায়িকা মাহিয়া মাহি। ছেলের বয়স আড়াই মাস চলছে। জন্মের পর সন্তানের ছবি শেয়ার করেননি মাহি। হঠাৎই গত মঙ্গলবার রাতে বাচ্চার ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন মাহি। সন্তানের হাসিমুখের তিনটি ছবি দিয়ে লিখেছেন ‘মাশা আল্লাহ’।
ছবির নিচে অনেকেই শুভকামনা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন অভিনয়শিল্পী, পরিচালকসহ ছোট ও বড় পর্দার তারকারা—রোশান, আঁচল, মিষ্টি জান্নাত, জাহারা মিতু, বিপাশা কবির, শবনম ফারিয়া, শ্রাবণ্য তৌহিদা, মামুন অপু, শিহাব শাহীন, চয়নিকা চৌধুরীসহ অনেকে।
কিছুদিন আগেই প্রথমবার বাবা হওয়া চিত্রনায়ক রোশান মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘মাহি তুমি জানো, আমার মনে চাচ্ছে, ওরে কোলে নিয়ে অনেকগুলো চুমু দিই। কী সুন্দর হাসিটা না দিয়েছে! মাশা আল্লাহ!’ শবনম ফারিয়া লিখেছেন, ‘ছোট সরকার সাহেব কী খুশি! মাশা আল্লাহ!’

সন্তান ফারিশের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা প্রসঙ্গে মাহি বলেন, ‘রাতে ছেলেকে কোলে নিয়ে আদর করছিলাম। ওই সময় ফারিশও নিজে নিজে মুখে শব্দ করছিল। আমি ওর সামনে ফোনের ক্যামেরা ধরলাম। চুপ হয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকল। একটা সময় হাসতে লাগল। দৃশ্যটা খুব ভালো লাগছিল, কয়েকটা ছবি তুলে ফেললাম। আর ভালো লাগার মুহূর্তটি সবার সঙ্গে শেয়ার করতে ফেসবুকে ছবিগুলো পোস্ট করলাম।’

মাহির কথা, ‘মা–খালাদের বিশ্বাস, বাচ্চাকে বেশি মানুষের মধ্যে নেওয়া যাবে না। বাচ্চার ছবি ফেসবুকে দেওয়া যাবে না। সবার নাকি নজর লাগে। কিন্তু এইবার তাঁদের কথা শুনিনি। ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে শেয়ার করেছি। ছবিগুলো অনেক মজার।’

প্রথমবার মা হয়ে সন্তানের লালন–পালনে মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে মাহির। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় বাচ্চা কান্না করলে, তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারি না, কেন কান্না করছে। তখন কী করি, সামনে নানি থাকলে নানির কোলে, দাদি থাকলে দাদির কোলে দিয়ে দিই। তখন চুপ হয়ে যায়। আর কোলে নিয়ে ওর দাদি সারাক্ষণই দোয়া–দরুদ পড়েন।’

বাবার কাছে নাকি মায়ের কাছে ফারিশ বেশি শান্ত থাকে? এমন প্রশ্নে মাহি বলেন, ‘আমার কোলে বেশি শান্ত থাকে। রাকিবের কোলেও শান্ত থাকে, তবে কান্নাও করে। আর যখনই কান্না করে, তখনই রাকিব বলে, “এই ফারিশ কান্না করছে, তোমার কোলে যাবে।” এই বলে আমাকে দিয়ে দেয় সে। হা হা হা…!’

এদিকে মাহি জানান, ফারিশের বয়স কম হলেও এখনই হাঁটার চেষ্টা করে সে। বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ওর গ্রোথ ভালো। ছবিতে খেয়াল করে দেখেন। মনে হচ্ছে আড়াই মাসেই অনেক বড় হয়ে গেছে। কোলে বসে থাকলে বা বিছানা থেকে তোলার সময় পা দিয়ে ধাক্কা মেরে মেরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। দৃশ্যটা দেখতে মজাই লাগে।’
বয়স আড়াই মাস হলেও মাহি ও রাকিব দুজনই ফারিশকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। কখনো কখনো ঢাকার বাইরেও ঘুরতে যান। মাহি বলেন, ‘অনেকে বলেন না, বাচ্চা হওয়ার পর সন্তানের প্রতি স্ত্রীর বেশি দায়িত্ব থাকে। এতে একটা সময় পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটু দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু আমি সেটা করি না। সন্তান হওয়ার আগেও যেমন আমি আর রাকিব বাইরে ঘোরাঘুরি করেছি, সন্তান হওয়ার পরও ঘুরি। কখনো কখনো ফারিশকেও সঙ্গে নিয়ে যাই। কয়েক দিন আগে আমরা ১৮টি বাইক নিয়ে কুয়াকাটা ট্যুর করেছি। আমি আর রাকিব বাইকে ছিলাম। ফারিশ গাড়িতে ছিল। পথে মাঝেমধ্যে থেমে ফারিশকে খাইয়েছি।’

যেহেতু বাইরে বের হচ্ছেন, ঘুরছেন, তাহলে শুটিংয়ে ফিরবেন কবে? জানতে চাইলে মাহি বলেন, ‘বাচ্চা হওয়ার পর মুটিয়ে গেছি। ওজন কমাতে হবে। এখনই ডায়েট শুরু করতে পারছি না। ডায়েট করলে বাচ্চার জন্য সমস্যা হতে পারে। আশা করছি, মাস তিনেকের মধ্যে ডায়েট করা শুরু করতে পারব। এ বছরের শেষে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারি।’

Scroll to Top