আইনজীবীকে পুলিশ কর্মকর্তার মারধর : ইউএলএফের নিন্দা

শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ময়মনসিংহ রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এনামুল করিম ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আশিকুর রহমানের উপর যে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করেছেন তার তীব্র নিন্দাসহ ওই পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণের দাবি করেছেন ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট (ইউএলএফ)।

শুক্রবার (১৬ জুন) ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্টের (ইউএলএফ) কনভেনর সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী এক যুক্ত বিবৃতিতে ময়মনসিংহের আইনজীবী আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার জানান।

ফ্রন্টের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুবের পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এ ধরনের বে- আইনি, সভ্যতা বিবর্জিত এবং পেশী শক্তির নগ্ন বহিঃপ্রকাশের নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই। ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্ট মনে করে, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের কোনো জবাবদিহিতা নেই বরং ক্ষমতাসীনরা তাদের দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের নামে এবং বিভিন্ন নির্বাচনের সময় বিশেষ করে ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোটের মতো গণতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রমে পুলিশ ছিল অন্যতম অংশীদার। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ এবং প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, আইনজীবীর পুলিশ দ্বারা আহত হওয়া তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

ইউএলএফ নেতারা বিবৃতিতে বলেন, আইনজীবীদের এ মোর্চা অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমানের প্রতি গভীর সহমর্মিতা এবং  ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সব বক্তব্য এবং আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে।

ক্ষমতার দম্ভে দিকভ্রান্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার অনতিবিলম্বে অপসারণ এবং আশিকুর রহমানের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানাই।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহের এ দুঃখজনক ঘটনা প্রমাণ করে যে, সারা দেশের আইনজীবীদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার জন্য ‘আইনজীবী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। বিবৃতিতে সারা দেশের আইনজীবী সমাজকে এ নির্মম ঘটনাসহ আইনের শাসন, গণতন্ত্র ভোটাধিকার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনে অংশ গ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৪ই জুন ২০২৩ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এনামুল হক আইনজীবী আশিকুর রহমানের সঙ্গে প্রথমে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ পরবর্তীতে শারীরিক নির্যাতন করেন। চড়-থাপ্পড় ছাড়াও একজন কনস্টেবলের মাধ্যমে রড এনে আইনজীবীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

Scroll to Top